তাওহীদ হাসান ওসামা, অভয়নগর প্রতিনিধি
প্রায় ৫ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত অভয়নগর উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনের বেহাল দশা। যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা। আর সেই ঝুকিপুর্ণ ভবনে গাদাগাদি করে কোন রকমে চলছে চিকিৎসাসেবা। পুরাতন ভবনের সিলিং খসে খসে পড়লেও নেই কারো কোন মাথাব্যাথা। এরই মধ্যে রোগীর মাথায় সিলিং খসে পড়ে ঘটেছে আহত হওয়ার মত ঘটনা। এমতাবস্থায় ঝুঁকিপুর্ণ ভবনে রোগীরা দিন কাটাচ্ছে চরম আতঙ্কে। গতকাল শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রবেশদ্বারের সিলিং এ বড় ধরণের ফাটল, ইতিমধ্যে ভেঙ্গে পড়েছে বড় একটি অংশ। যেখানে গুরুতর রোগীদেরকে ভ্যানযোগে এনে রাখা হয়। তাছাড়া দ্বিতীয় তলার সিড়ি সংলগ্ন, পুরুষ, মহিলা ওয়ার্ড ও স্টাফ রুমের সিলিং প্রতিদিন খসে খসে পড়ছে। সবচেয়ে ঝুকিপুর্ন নারী ও শিশু ওয়ার্ডের সিলিং এর অবস্থা। উপরে ভাঙ্গাচোরা ছাদ নিচে নারী শিশুদেরকে রেখে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা। যদিও কর্তৃপক্ষ সতর্কতা অবলম্বনে একটি সিট খালি রেখেছে। পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি গুয়োখোলা এলাকার আঃ খালেক জানান, দুপুরে ভাত খাওয়ার সময় হঠাৎ উপর থেকে বড় একটি ভাঙ্গা টুকরা প্লেটের উপর খসে পড়েছে। অল্পের জন্য বড় দূর্ঘটনা ঘটেনি। মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি রওশান আরা জানান, সেদিন রাতে মাথার উপরে সিলিং খসে পড়েছে ফলে গুরুতর আহত হয়েছি। একজন নার্স জানান, স্টাফ রুমের সিলিং ভেঙ্গে আমি নিজে সেদিন আহত হয়েছি। এভাবে চলতে থাকলে যেকোন সময় বড় ধরণের দূর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিনিয়ত বাড়ছে রোগীর সংখ্যা, মাত্র ৫০ বেডে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে বলে হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়। এমতাবস্থায় ৫০ বেডের এই হাসপাতালের বেড বাড়ানোর জোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী রোগী সাধারণ। রাণী মন্ডল নামে একজন রোগী জানান, হাসপাতালে বেড না পেয়ে গত ২দিন ধরে ফ্লোরে রয়েছি। এব্যাপারে জানতে চাইলে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আলিমুর রাজিব বলেন, আমাদের এই হাসপাতালে সবসময় ১শ’ এর কাছাকাছি রোগী ভর্তি থাকে ফলে সবাইকে সব সময় সিট দেওয়া সম্ভব হয়না। হাসপাতালের বেহাল দশার বিষয়ে জানতে চাইলে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, পুরাতন ভবনের বেহাল দশার বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়েছি। সু-দৃষ্টি দিলে সব সমস্যার সমাধান হবে।