মোহাম্মদ মাসুদ বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ষোলটি আসনে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।যারা বাদ পড়েছেন তারা যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন,তবে তাদের ব্যাপারে নমনীয় থাকবে দলের হাইকমান্ড।
রোববার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৯৮ আসনে দল মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করে।
এছাড়াও অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন করার জন্য নিজেদের গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন।
মূলত বিএনপি এখনো পর্যন্ত নির্বাচনে আসার ঘোষণা না দেওয়ায় নির্বাচন উৎসবমুখর করতে আওয়ামী লীগের আগ্রহীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারবেন বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রামের একাধিক আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।চট্টগ্রাম–১ (মিরসরাই) আসনের মিরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দীন নাগরিক কমিটির ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।তিনি বলেন, জনগণ আমাকে চায়, আমি জনগণের কথা রাখার জন্য প্রার্থী হচ্ছি।মনোনয়ন না পেয়ে চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন।তিনি বলেন, যেহেতু নির্বাচন করতে দলের কোনো বাধা নেই; নেত্রী বলে দিয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা যাবে। তাই নির্বাচন করব। সোমবার (আজ) বিকেল ৫টায় সীম্যান্স হোস্টেল লিলি ক্লাবে মতবিনিময় সভা আহ্বান করা হয়েছে। এই সভা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ উপকমিটির সদস্য আবদুল জব্বার চৌধুরী।সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ ছাড়েন এম এ মোতালেব। চট্টগ্রাম–১৫ (লোহাগাড়া–সাতকানিয়া আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেব।তিনি বলেন, কর্মী-সমর্থকরা আশায় ছিলেন। তারা বলছেন নির্বাচন করতে। যেহেতু নির্বাচন করলে দলের কোনো বাধা নেই, তাই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার বিশ্বাস, আমি যেভাবে সর্বসাধারণের ভালোবাসা পেয়ে এসেছি তেমনি সকলের ভোট পেয়ে নির্বাচিত হতে পারব ইনশাআল্লাহ। আমি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিব।
চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি বাঁশখালীর মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছি। আমাদের ৩০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের অধীনে বাঁশখালীর লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করেছি। পুরো বাঁশখালীর মসজিদ, মন্দির ও বিভিন্ন এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এলাকার মানুষজন আমাকে এমপি হিসেবে দেখতে চায়। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেহেতু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নাই বলেছেন, তাই আমি নির্বাচনে অংশ নিবো। নির্বাচিত হলে অবহেলিত বাঁশখালীতে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা হবে।একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটন। তিনি বলেন, বাঁশখালীর কর্মী-সমর্থকরা আশায় ছিলেন। যেহেতু নির্বাচন করতে দলের কোনো বাধা নেই; নেত্রী বলে দিয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা যাবে। তাই নির্বাচন করবো।
Leave a Reply